এক্সক্লুসিভ : আতঙ্কে থেকেও সুনীল-গুরপ্রীতদের জন্য চিন্তিত এই ব্যক্তি! কে তিনি? জানতে পড়ুন…

এক্সক্লুসিভ : আতঙ্কে থেকেও সুনীল-গুরপ্রীতদের জন্য চিন্তিত এই ব্যক্তি! কে তিনি? জানতে পড়ুন…

সব্যসাচী বাগচী : সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সময় তাঁর ভারতে থাকার কথা ছিল। ‘মেন ইন ব্লু’ ব্রিগেডকে নিয়ে ক্যাম্প করার কথা ছিল। কিন্ত সেটা আর হল কোথায়! করোনা নামক ভাইরাসের মারণ থাবা বদলে দিল সব হিসেব-নিকেশ। মঙ্গলবার সন্ধেবেলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। যা চলবে আপাতত ১৪ এপ্রিল। তাই তো সুনীল ছেত্রী-গুরপ্রীত সিং’দের মত তাঁদের ‘হেড স্যার’ ইগর স্টিমাচ’ও এখন তাঁর দেশ ক্রোয়েশিয়ায় পরিবারের সাথে গৃহবন্দী। কারণ, তাঁর দেশও যে করোনায় আক্রান্ত। তাই দেশকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় লকডাউন। এরমধ্যে আবার গত ২২ মার্চ দেশের রাজধানী জাগ্রেভ শহরে ভূমিকম্প হয়েছে। তাই যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তবে একইসঙ্গে দলের সমস্ত ফুটবলার ও ভারতের নাগরিকদের সুস্থ থাকার বার্তা দিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রাক্তন বিশ্বকাপার।

স্পেন, ইতালির মত দাভর সুকেরে’র দেশ ক্রোয়েশিয়াও ‘কোভিড-নাইনটিন’এ আক্রান্ত। বুধবার ভারতীয় ফুটবল দলের কোচের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এক্সট্রাটাইম। ইগরের বাড়ি দক্ষিণ ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিট শহরে। সেখান থেকে হোয়াটসআ্যপের মাধম্যে ইগর বলেন, “পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুসারে ২৬ মার্চ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কাতারের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ ছিল। এরপর ৩১ মার্চ তাজাকিস্থানের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এখন সব বাতিল। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। আগে তো পরিবার নিয়ে সবাই বাঁচি, তারপর ফুটবল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা যাবে। একটা ফুটবল ম্যাচে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্ট্রাটেজি করা যায়। এখানে তো বিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার কোনও উপায়ই খুঁজে পাচ্ছি না। তাই পরিবার নিয়ে ঘরবন্দি থাকাই এই মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ। পুরোনো খেলা, পছন্দের সিনেমা দেখে সময় কাটাচ্ছি। এবং সর্বক্ষণ ভগবানকে ডাকছি।”

স্ত্রী লানা ও দুই ছেলের সঙ্গে ইগর।

করোনা ভাইরাসে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬০৬। বুধবার নতুন করে ৮৭ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার তামিলনাড়ুতে এক জন এবং মধ্যপ্রদেশে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দেশের মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতেও। প্রথম আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে মিজোরামে। অন্যদিকে, বিশ্বেও আক্রান্তের সংখ্যাটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১৮ হাজার। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেখানে মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। চিনে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮২ হাজার। স্পেনের অবস্থাও ভাল নয়।

এইসব তথ্য তাঁর জানা। তাই বেশ আতঙ্কের সঙ্গে বলছিলেন, “দেশের অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না। স্ত্রী লানা ও দুই ছেলে ইভান এবং নিকো খুব চিন্তা করছিল। তাই ১৩ মার্চ দেশে ফিরে আসি। এবং গত সপ্তাহ থেকে গোটা ক্রোয়েশিয়া জুড়ে লকডাউন শুরু হয়েছে। আপাতত তিন সপ্তাহ লকডাউন চলবে। যখন দেশে ফিরলাম তখন আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪০০। এখন সেটা কমে ৪১৮’তে দাঁড়িয়েছে। ১৬’জন এখন বিপদমুক্ত। তবে তাই বলে আমরা কিন্তু পুরোপুরি সুরক্ষিত নই। কারণ, আমাদের দেশ কিন্তু খুব ছোট।” কিন্তু কীভাবে আপনার দেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করল? ক্ষোভের সঙ্গে ইগরের জবাব, “আমাদের দেশে ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে করোনা এলেও, আমাদের ক্ষেত্রে ইতালি, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে জার্মানি, তুর্কি, রোমানিয়া, তানজানিয়ার মত দেশ জুড়েছে। তবুও মানুষের মধ্যে চেতনার খুব অভাব। লকডাউনের গুরুত্ব অনেকে বুঝতেই পারছে না। এর ফল যে কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে সেই ধারণা অনেকের নেই।”

দুই ছেলে ইভান ও নিকো’র সঙ্গে খুনসুটিতে মশগুল তাদের বাবা।

তবে ইগর যেমন তাঁর দেশ, নিজের পরিবারের জীবন নিয়ে চিন্তিত, তেমনই সুনীল ও বাকি ফুটবলারদের জন্যও চিন্তা করছেন। ইন্টারনেটের যুগ। ফলে অনায়াসে দলের সবার সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাই ভারত অধিনায়কের পাশাপাশি বাকিদের জন্য বার্তা দিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “তোমরা সবাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও। এবং নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে সুস্থ থাকো। এটাই বাঁচার একমাত্র পথ।”

এবং সবার শেষে ভারতীয়দের উদ্দেশে টিম ইন্ডিয়ার কোচের বার্তা, “আপনারা সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। এবং বিশ্ব জুড়ে করোনার বিরুদ্ধে জেতার জন্য জোটবদ্ধ হোন। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। তিনিই একমাত্র আমাদের রক্ষা করতে পারেন।”

Loading...
CATEGORIES
TAGS
Share This