কেন চিন্তায় রয়েছেন মারিও রিভেরা? নাগরিকদের উদ্দেশে কী বললেন? জানতে পড়ুন…

কেন চিন্তায় রয়েছেন মারিও রিভেরা? নাগরিকদের উদ্দেশে কী বললেন? জানতে পড়ুন…

সব্যসাচী বাগচী : মারণ ভাইরাস করোনা আতঙ্কে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। সেই আঁচ আমাদের শহরেও লেগেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে সাতজন করোনা আক্রান্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে সোমবার বিকেলে শহরে একজন মারা গেলেন। এমন ভয়াল পরিস্থিতির আঁচ যে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের অন্দরমহলে ঢুকবে সেটাই তো স্বাভাবিক। দুই প্রধান মিলিয়ে এই মুহূর্তে কলকাতায় রয়েছেন এগারোজন স্প্যানিশ। যারমধ্যে ফুটবলার, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে লাল-হলুদের সংখ্যাটা সাত। এঁরা হলেন কোচ মারিয়ো রিভেরা, সহকারী কোচ মার্সাল ট্রুলস ও ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোদার। চার ফুটবলার হাইমে স্যান্টোস কোলাডো, মার্কোস, জুয়ান মেরা ও ভিক্টর পেরেজ আলন্সো।

লকডাউন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ট্যুইটের পরেও জনতার ঘুম ভাঙছে কোথায়!

ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ। লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্ট এমন ফতোয়া জারি করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন লাল-হলুদের হেডস্যার। সোমবার এক্সট্রাটাইম’এর তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলে হোয়াটসআ্যপের মাধম্যে তিনি বলেন, “প্রতেকটা মুহূর্ত আতঙ্কে কাটাছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি সবচেয়ে বেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে আমার দেশ স্পেন। আমার পরিবারের মতো অনেকেই শহর ছেড়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে চলে গিয়েছে। তবুও আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন যারা এই কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। তাঁরা যখন তখন ঘর থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমায়েত হচ্ছেন। ফলে সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে। তাই সবমিলিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে দিনরাত কাটাতে হচ্ছে।”

স্পেনের মাদ্রিদ শহরের বাসিন্দা মারিয়ো। তবে এই মুহূর্তে মাদ্রিদ মোটেও সুরক্ষিত নয়। তাই তাঁর গোটা পরিবার অন্যত্র চলে গিয়েছে। বলছিলেন, “মাদ্রিদে এখন থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রানাদায় আমাদের একটি বাড়ি আছে। সেখানেই আমার স্ত্রী ও পরিবরারে অন্য সদস্যরা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছে।” এরপরেই মন খারাপের সুরে যোগ করলেন, “১৩ মার্চ আমার মা ও স্ত্রীর কলকাতায় আসার কথা ছিল। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিজেদের দশদিন গৃহবন্দি করে রেখেছিল ওরা। কিন্তু কলকাতা রওনা হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টা আগে ভারত সরকার ওদের ভিসা বাতিল করে। তাই এখন ওরা আবার গৃহবন্দি। ভিডিও কল ছাড়া ওদের সাথে কথা বলার কোনও উপায় নেই। কিন্তু সবার মঙ্গলের জন্য এটা মানিয়ে নিতে হবেই।”

জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তা দিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ মারিও রিভেরা। নিজস্ব চিত্র।

লাল-হলুদ কোচ ও তাঁর ফুটবলাররা এই মুহূর্তে নিজেদের নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে বন্দি করে রেখেছেন। তবে শরীর কলকাতায় থাকলেও, মন পরে রয়েছে সুদূর স্পেনে। বললেন, “বাইরে যাওয়ার তো কোনও প্রশ্নই নেই। সবার সঙ্গে আড্ডা মেরে সময় কাটাচ্ছি। জনবহুল এলাকায় গেলে কখন যে কী হয়ে যাবে, তা কেউ জানে না। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। তবুও আমাদের মন কিন্তু দেশে থাকা পরিবারের জন্য ছটফট করছে। যদিও ভাল ব্যাপার হল আমাদের চার ফুটবলারের কারও বাড়ি মাদ্রিদে নয়। ওদের অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত ভাইরাস সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তবুও ওরা ঝুঁকি নিতে নারাজ। সকলের পরিবারের সদস্যরাই স্পেনে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন।”

একদিকে মারিও যেমন ‘প্লিস স্টেই আ্যট হোম’এর বার্তা দিলেন, তেমনই সোমবার সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ট্যুইটারে লিখেছেন, “লকডাউন’কে অনেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না। দয়াকরে নিজেকে বাঁচান। নিজের পরিবারকে বাঁচান। এবং নিয়ম পালন করুন। প্রতিটি রাজ্য সরকারের কাছে আমার অনুরোধ লকডাউন’কে গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হোক।” যদিও সেই নিয়মের তোয়াক্কা অনেকেই করছেন না। সেটা দেখে লাল-হলুদ কোচ বেশ স্তম্ভিত। সোজাসুজি বললেন, “ইটালি ও আমার দেশ স্পেন লকডাউনকে পরোয়া করেনি। এখন ফল ভোগ করছে। কলকাতা ও ভারতের একাধিক শহরে মানুষ যত্রতত্র জমায়েত করছে। এটা শুভ সঙ্কেত নয়। কোরিয়া, জাপান এমনকি চীন পর্যন্ত লকডাউন মেনে সুফল পাচ্ছে। তাই বাঁচতে হলে লকডাউন মানা একমাত্র উপায়।”

এভাবেই হোটেলে ঢোকার মুখে কোলাডো’দের প্রতিনিয়ত ‘থার্মাল স্ক্যানিং’ চলছে। ছবি সৌজন্যে : ট্যুইটার।

এবং একেবারে শেষে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কথাগুলো জুড়ে দিলেন, “আমরা এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছি। এটা ফুটবলের থেকেও কঠিন ম্যাচ। কারণ, বিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে আমাদের কোনও ধারণা নেই। তবুও সবাই একজোট হয়ে এই কঠিন ম্যাচটা জিততেই হবে। না হলে কিন্তু সব শেষ!”

Loading...
CATEGORIES
TAGS
Share This