প্রস্তাব আছে কলকাতার দুই ক্লাবেরই! এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন প্রবীর!

প্রস্তাব আছে কলকাতার দুই ক্লাবেরই! এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন প্রবীর!

গোপাল রায়ঃ এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত বাঙালি তিনি। আইএসএল শেষ হতেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয়ে গেছে টানাটানি। শুধু ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান-এটিকে নয়, তাঁর কাছে প্রস্তাব আছে আইএসএলের অন্যান্য দলগুলিরও। সেই সব ছাড়াও আরও অনেক কিছু নিয়েই এক্সট্রাটাইমকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন আইএসএল জয়ী এটিকের ফুটবলার প্রবীর দাস।

প্রশ্নঃ এখন কি করে সময় কাটছে?

প্রবীরঃ
দেখুন, মারণরোগের হাত থেকে রেহাই পেতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ২১ দিনের লক ডাউন ঘোষণা করেছে। ফলে মাঠে বা শরীর চর্চা করতে যেতে পারব না। ঘরবন্দি হয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। তাই শুয়ে, বসে মা, বাবা, দাদা-বৌদিদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। আর সময় পেলে রান্না করছি।

প্রশ্নঃ আরে, সবাই জানে প্রবীর দাস উইং দিয়ে অসম্ভব গতি দিয়ে উঠে নিখুঁত ঠিকানায় বল মাইনাস করতে পারেন। প্রয়োজনে রাইট সাইডব্যাকেও দারুন খেলেন। কিন্তু প্রবীর দাস আবার রান্নাও করতে পারেন, এটা তো কারও জানা ছিল না। তা কী রান্না করছেন?

প্রবীরঃ
সেই রকম কিছু না। পরিবারকে একটু বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়ানোর ইচ্ছা আছে। তবে হ্যাঁ, বলতে পারেন, যে ফুটবল খেলতে পারে সে রান্নাও করতে জানে।

প্রশ্নঃ তাই তো দেখছি!

প্রবীরঃ আসলে, আর কিছু নয়। অস্ত্রোপচারের পর বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ে রিহ্যাব থাকার সময়, একা একা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। ওই সময় নিজেই রান্না করে খেতাম। ফলে রান্নার হাতটাও বেশ পাকিয়ে নিয়েছি ওই সময়। তাছাড়া অল্প-বিস্তর রান্না জানতামই। না হলে কি বিরিয়ানি রান্না করা সম্ভব! (হাসি)

প্রশ্নঃ তা রিহ্যাবের জন্য বেঙ্গালুরু, চেন্নাই কেন?

প্রবীরঃ সতীর্থ ফুটবলার ও এজেন্টের পরামর্শেই ওইখানে গিয়েছিলাম। বেঙ্গালুরুতে পাঁচ মাস ছিলাম। ২ দিনের জন্য কলকাতায় এসে মায়ের সঙ্গে দেখা করেই চেন্নাই চলে গিয়েছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার লিথাবের কাছে রিহ্যাব করব বলে। ওনার তত্ত্বাবধানে ১ মাস রিহ্যাবে ছিলাম।

প্রশ্নঃ রিহ্যাবে কী করতে হত?

প্রবীরঃ মাঠে ফিরতে বিভিন্ন ট্রেনিং করতে হত। মাসেল পাওয়ার বাড়ানোর জন্য। বেঙ্গালুরুতে থাকার সময় সকাল ৬টায় ট্রেনিংয়ে বেরতাম। রাত ৯টায় বাড়ি ফিরতাম। দুপুরে ট্রেনিং সেন্টারেই শুয়ে পড়তাম। সঙ্গে করে কিছু সেদ্ধ খাবার নিয়ে যেতাম। কাকভোরে সেগুলো নিজের হাতেই করে ফেলতাম। এই করে ছ’ মাস কাটিয়েছি।

প্রশ্নঃ কিন্তু চোটটা লাগল কী করে?
প্রবীরঃ
২০১৮-১৯ মরশুমের সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের সেই সময়কার কোচ স্টিভ কপেল প্রি-সিজিন করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফুলহ্যামের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ ডান হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পাই। আর দাঁড়াতেই পারছিলাম না।

প্রশ্নঃ তারপর?

প্রবীর দাসঃ কলকাতায় ফিরে মুম্বাইয়ের শল্য চিকিৎসক অনন্ত যোশীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখন পুজোও আসতে চলছে। উনি সময় চেয়ে নিলেন। আর আমাকে মাসেল পাওয়ার বাড়াতে বললেন, যাতে অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত মাঠে ফিরতে পারি। ২৪ অক্টোবর আমার অস্ত্রোপচার হয়। তার কিছুদিন পর রিহ্যাবে চলে গেলাম। এর জন্য আমার পরিবার ও এটিকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

প্রশ্নঃ কেন?

প্রবীরঃ দেখুন, ওই সময় আমার একদিকে চোট, আরেকদিকে পারিবারিক সমস্যা। দুই দিক দিয়েই আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলাম। যে বুট পরে খেলি। সেই বুটের গায়ে লিখে রেখেছিলাম সমস্ত কিছু বাধা কাটিয়ে আমি বাঘের মত ফিরবই। পারিবারিক সমস্যার জন্য অবশ্য মা সন্ধ্যা দাস, বাবা মনা দাস তো পাশে ছিলই। দাদা-বৌদিকেও পেয়ে গেলাম। তার কারণ, আমি সঠিক ছিলাম বলেই ওনাদের পাশে পেয়েছি। আর চোটের পর মাঠে ফিরে আসার জন্য এটিকের অবদান ভোলার নয়। ওরা আমার জন্য যা করেছে। অস্ত্রোপচার থেকে রিহ্যাব — সব সময় ওরা আমার পাশে থেকে সাহায্য করে গেছে।

প্রশ্নঃ মাঠে কবে কবে ফিরলেন?

প্রবীরঃ ডুরান্ড কাপে। এটিকে রিজার্ভ টিমের হয়ে খেলে। যেহেতু এই প্রথমবার ডুরান্ড কাপ হল কলকাতায়, তাই সুযোগটাকে হাতছাড়া করলাম না। ওটাকেই চোট কাটিয়ে ফিরে আসার মঞ্চ হিসাবে বেছে নিলাম। তারপরেই তো হাবাসের দলে।

প্রশ্নঃ হাবাস তাহলে এটিকের লাকি কোচ?

প্রবীরঃ উনি অনেক বড় মাপের কোচ। এই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। ওনার হাত ধরে তৃতীয় বারের জন্য আইএসএল জিতল আমাদের দল। আমার অবশ্য এটিকের হয়ে এটি দ্বিতীয় আইএসএল জয়। প্রথমটা জিতেছিলাম ২০১৬ তে। তখন ৭ কিংবা ৮টার মতো ম্যাচ খেলেছিলাম। এবার সেখানে, চোট কাটিয়ে ফিরে এসে ২০টা ম্যাচ খেললাম।

প্রশ্নঃ সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ কে ছিল?

প্রবীরঃ সবই ভাল দল। উনিশ-বিষ পার্থক্য ছিল। না হলে চেন্নাইয়ন শেষ থেকে উঠে এসে ফাইনাল খেলে? গোয়া, কেরালা, বেঙ্গালুরুও বেশ ভাল দল।

প্রশ্নঃ আইএসএল তো শেষ। এটিকে তে আপনার চুক্তিও তো শেষ। কোথায় সই করবেন?

প্রবীরঃ কৃতজ্ঞতা অনুযায়ী এটিকেতেই সই করা উচিত। হয়তো তাই করব। তবু এক সপ্তাহ সময় নিয়েছি। বর্তমান নানা কারণের জন্য। তাছাড়া দুটো ক্লাব মার্জার হচ্ছে। ফলে এখানে থেকে গেলে পুরোনো ক্লাবেও ফিরে আসা হবে।

প্রশ্নঃ আর কোন কোন ক্লাবের প্রস্তাব আছে?

প্রবীরঃ ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের চিত্রটা তো এখনও পরিষ্কার নয়। ওরা আগামী বছর আইএসএলে খেলবে কিনা! এছাড়াও আরও কয়েকটি আইএসএল ক্লাবের প্রস্তাব আছে।

Loading...
CATEGORIES
TAGS
Share This